শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ০১:০২ পূর্বাহ্ন

শিরোনামঃ
ঈদে নির্বিঘ্ন যাতায়াতে ডিএমপির কঠোর নির্দেশনা: ৭ দিন বন্ধ থাকবে ভারী যানবাহন বৃষ্টির হানা মিরপুরে: ৩২ ওভারে বাংলাদেশের লক্ষ্য ২৪০ রান ইরাকে মার্কিন জ্বালানি বিমান বিধ্বস্ত: ৬ আরোহীর সবাই নিহত ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন: কার্য উপদেষ্টাসহ ৫ সংসদীয় কমিটি গঠন, পর্যালোচনায় আসবে ১৩৩ অধ্যাদেশ ধামরাইয়ে জরাজীর্ণ মিটারে বারবার আগুন: নতুন সংযোগে পল্লী বিদ্যুতের ‘গড়িমসি’, আতঙ্কে ব্যবসায়ীরা রাষ্ট্রপতির পরস্পরবিরোধী বক্তব্য ও নৈতিকতা: পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল রাজনৈতিক অঙ্গন ইরানে সরকার পতন সম্ভব নয়: ইসরায়েলের ‘অসহায়’ স্বীকারোক্তি হরমুজ প্রণালিতে ৩ জাহাজে ভয়াবহ হামলা: একটিতে আগুন, নাবিকদের উদ্ধার

বিরল রোগে আক্রান্ত নজরুলের জীবন ক্রমান্বয়ে দুর্বিসহ হয়ে উঠছে

খুলনা ব্যুরো::

পরিবারের বড় সন্তান মো. নজরুল ইসলাম (৩০)। তার ছোট আরও ৫ ভাই-বোন রয়েছে। তার ওপর বৃদ্ধ মা-বাবা। জৈষ্ঠ সন্তান হিসেবে পরিবারের হাল ধরার কথা ছিল তার। কিন্তু ভাগ্য সহায় হয়নি। দুরারোগ্য এক বিরল ব্যাধি বাসা বেঁধেছে শরীরে। ডান পায়ের পাতা থেকে কোমর পর্যন্ত ফুলে প্রচন্ড ভারি হয়ে গেছে। দেখতে অনেকটাই হাতির পায়ের মত। যার প্রভাবে শরীরের ডান দিকের অংশে বুক, কান এবং মাথাও আক্রান্ত হতে শুরু করেছে। ফলে কোন কাজকর্ম করা বা চলাফেরাও তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ছে।

নজরুল ইসলাম খুলনা মহানগরীর দক্ষিণ টুটপাড়া বড় খালপাড় সংলগ্ন ৬০/১১, ওয়েস্ট সার্কুলার রোড এলাকার ভাড়া বাড়িতে বসবাস করেন। তার পিতার নাম রুস্তম আলী।

চিকিৎসকরা বলছেন, রোগের নাম ‘ফেলারিয়াসিস’। তবে, পা ফুলে হাতির পায়ের মত দেখা যায় বলে রোগটি ‘ফাইলেরিয়া এলিফ্যান্ট’ নামেও পরিচিত। মশা বা এ জাতীয় বিষাক্ত কোন প্রাণির কামড়ে এ রোগ দেখা দিয়েছে। তার সুস্থ্যতার জন্য প্রয়োজন উন্নতমানের চিকিৎসা ও প্রচুর অর্থ। কিন্তু তার দরিদ্র পরিবারের পক্ষে অর্থের সংস্থান করা সম্ভব হচ্ছে না। যে কারণে টগবগে যুবক নজরুল ধীরে ধীরে অক্ষম হয়ে পড়ছে। একদিকে নিজের অক্ষমতা, অন্যদিকে অসুস্থ্য মা-বাবার চিকিৎসা এবং ছোট ভাই-বোনের লেখাপড়া ও সংসার পরিচালনায় কোন ধরণের সহযোগিতা করতে না পারার বেদনায় জীবন ক্রমান্বয়ে দুর্বিসহ হয়ে উঠছে তার।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নজরুলের বয়স যখন ৭-৮ বছর, তখন কোন বিষাক্ত প্রাণির কামড়ে হঠাৎ করেই তার ডান পায়ের পাতা ফুলতে শুরু করে। সঙ্গে ব্যাথাও। প্রথমে স্বাভাবিক মনে করে ওষুধ সেবন করলেও নিরাময় হয়নি। নিরাময় হচ্ছে, হবে- এ আশায় কেটে যায় প্রায় দশ বছর। কিন্তু ততদিনে হাটু পর্যন্ত ফুলে যায়। পা ভারি হতে থাকে। এক পর্যায়ে পায়ের প্রতিটি শিরায় প্রচন্ড যন্ত্রণা, পানি ঝরা, ক্ষিচুনী এবং বমিসহ বিভিন্ন ধরণের উপসর্গ দেখা দেয়। যে কারণে লেখাপড়া পঞ্চম শ্রেনির গন্ডির মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে যায়। এ অবস্থায় রিকশার গ্যারেজে কাজ নেয় নজরুল। ভারি পা ও অসুস্থ্য শরীর নিয়ে প্রচন্ড মনোবলের সঙ্গে কখনও কখনও রিকশা চালিয়েও সংসারের হাল ধরার চেষ্টা করে সে। কিন্তু এখন আর সেটি সম্ভব হয় না। এখন বাড়তে বাড়তে কোমর পর্যন্ত ফুলে গেছে। দেখতে অনেকটাই হাতির পায়ের মত। এছাড়া এ রোগের প্রভাবে তার বুকের ডান অংশে চাকাচাকা অনুভব হচ্ছে। ডান কানেও ঠিকমত শুনতে পাচ্ছে না। মাথায়ও প্রচন্ড যন্ত্রণা হচ্ছে। ভারি কাজ বা বোঝা বহন ও জোরে হাটা-চলা করলে নানান সমস্যা দেখা দেয়। বর্তমানে নজরুল খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক মো. রেজাউল মোমিনের তত্বাবধায়নে থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন। তবে, অর্থাভাবে প্যাথলজি পরীক্ষা এবং ওষুধ কেনা তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।

যৌন ও চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. আখতার-উজ-জামান এ প্রতিবেদককে বলেন, এ রোগের নাম ‘ফেলারিয়াসিস’। তবে, পা ফুলে হাতির পায়ের মত দেখা যায় বলে রোগটি ‘ফাইলেরিয়া এ্যালিফেন্ট’ নামেও পরিচিত। মশা বা এ জাতীয় বিষাক্ত কোন প্রাণির কামড়ে মাইক্রো ব্যাক্টেরিয়ার ফলে এ রোগ হয়ে থাকে। প্রথম দিকে রি-কনসটেকটিভ সার্জারী করা সম্ভব হলে এ রোগ নিরাময় হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বিরল ব্যাধিতে আক্রান্ত নজরুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে তার অসহ্য যন্ত্রণা এবং দুর্বিসহ জীবনের অসহায়ত্বের কথা বর্ননা করেছেন। তিনি বলেন, একজন সুস্থ্য মানুষ হিসেবে অন্য দশজনের মত তারও অনেক স্বপ্ন, আশা ছিল। কিন্তু এ রোগের কারণে ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। প্রতিবন্ধী’র চেয়েও অসহায় জীবন-যাপন করতে হচ্ছে। অর্থের অভাবে উন্নত চিকিৎসা করাতে পারেননি। তার এ অসহায়ত্ব দেখে অনেকেই আশ্বাস দিয়েছেন, কিন্তু মেলেনি কোন সরকারি বা বেসরকারি সহায়তা। এখন তিনি তার চিকিৎসার জন্য রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী’র সহায়তার আশায় অপেক্ষা করছেন। আবেদন জানিয়েছেন- সুস্থ্য জীবন ফিরে পেতে সামান্য সহানুভুতির।

যুবক নজরুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমি এ দেশেরই কারও সন্তান, কারও ভাই। আমিও সুস্থ্য- স্বাভাবিকভাবে বাঁচতে চাই। নিজের সংসার, মা-বাবা ও ছোট ভাই-বোনদের দেখাশোনা করতে চাই। ভিক্ষা করে নয়, কাজ করে খেতে চাই। কিন্তু এই ভারি পা নিয়ে আমার পক্ষে কিছুই করা সম্ভব হচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রী অনেক অসহায়ের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন। তিনি আমারও দায়িত্ব নিয়ে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করলে কৃতজ্ঞ হতাম’।
নজরুলের বাবা রুস্তম আলী ও মা হনুফা বেগম তাদের বড় ছেলের এ দুরারোগ্য ব্যাধির বিষয়ে চরম হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, ৪ ছেলে ও ২ মেয়ে নিয়ে তাদের সংসার। এর মধ্যে ছোট দু’ ছেলে-মেয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থী। সেঝ ছেলে সুমনও হার্ডের রোগী। একমাত্র মেঝ ছেলে আল-আমিনের সামান্য চায়ের দোকান থেকে উপার্জিত অর্থে এতবড় সংসার চলছে। বড় ছেলের দুরারোগ্য ব্যাধির কোন চিকিৎসা করাতে পারছি না। ছেলের চিকিৎসার সহায়তার জন্য বৃদ্ধ এ মা-বাবা প্রধানমন্ত্রীসহ সমাজের বিত্তমানদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। (যোগাযোগ : ০১৮৬৫-৮৬৬২০৬, ০১৩০২-৫৬২৯৯৬।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com